মনিরামপুরে প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করে যত্রতত্রভাবে ঘের নির্মানের অভিযোগ

Md.Woliar Rahman | প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৯

Md.Woliar Rahman
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৯

ছবি- দৈনিক সমসাময়িক নিউজ।

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি।। যশোরের মনিরামপুরে ভবদহ সংলগ্ন বাহাদুরপুরের ফেইলের বিলের ফসলি জমি নষ্ট করে অপরিকল্পীতভাবে যত্রতত্র ঘের নির্মানের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার ওপর সম্প্রতি স্থায়ীভাবে পাবদা চাষের জন্য উপজেলার বাহির থেকে বড় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে ফসলি জমি লিজ নিয়ে অবৈধভাবে উচু করে বেড়ি বেধে ঘের নির্মান করছে। ফলে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্থ হয়ে বিল ও তার আশপাশের লোকালয়ের বসত বাড়িতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা সদরের পূর্বপ্রান্তে ভবদহ সংলগ্ন হরিদাসকাটি ইউনিয়নের বাহাদুরপুরে ফেইলের বিলে এলাকার কৃষকরা শতাধিক ছোট ছোট ঘের নির্মান করে বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি সাদা মাছের চাষ করে আসছেন। তবে বোরো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে ঘেরের মধ্যে ধান চাষ করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ঝাপা ইউনিয়নের মাছ ব্যবসায়ী শাহ আলম ও আব্দুস সবুর দুইটি স্থায়ী ঘের নির্মান করে পাবদা চাষ শুরু করেছেন।

শুধু শাহআলম অথবা সবুর নয় ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া এলাকার বড় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ১২০ বিঘা ফসলি জমি লিজ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে অপরিকল্পীতভাবে চারপাশে উচু করে বেড়ি বাঁধ ও প্রাচির দিয়ে পাবদা চাষের জন্য সম্প্রতি ঘের নির্মান শুরু করেছেন। এলাকার চন্ডিদাস, কালিপদ, কৃঞ্চ দাসসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, উচু করে বেড়ি ও প্রাচির নির্মান করায় বিলের পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তার ওপর গভীর করে খোড়া হলে এবং বছরজুড়েই মাছ চাষ করা হলে আশপাশের জমিতে ভাঙ্গন দেখা দিবে। ফলে আশপাশের ফসলি জমি ও বাড়িঘরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।
এলাকাবাসী অপরিকল্পীত এ ঘের নির্মান বন্ধের দাবি করে আসছেন উপজেলা প্রশাসনের কাছে। হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সহকারি ভূমি অফিসার(নায়েব) মিজানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত সপ্তাহে শহিদুল ইসলামের নামে নোটিশ পাঠিয়ে ঘের নির্মান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জানাগেছে প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে শহিদুল ইসলাম গত দুইদিন ধরে কয়েকটি স্কেভেটর দিয়ে খনন কাজ করছেন। তবে শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন প্রশাসনের নোটিশ পাবার পর মাটি খনন বন্ধ করে বেড়ি মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় তার উল্টোচিত্র। পুরোদমে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে শহিদুলের মোবাইলে ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, নোটিশ পাঠিয়ে খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পরও যদি পুনরায় খনন করেন তাহলে এবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তাকে অর্থদন্ডসহ কারাদন্ড দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে খননের কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।