মোঃ শাহ্ জালাল॥ যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরে হরিহর নদের তীরে অবস্থিত ফাজিল(ডিগ্রী) মাদ্রাসার বহুতল ভবনে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। সদ্য খননকৃত নদের পাড় ধ্বসে পানির চাপে মাদ্রাসার বহুতল ভবনের বেইজের মাটি সরে যাওয়ায় ভবনটি হেলে পড়েছে। তার ওপর ভবনের বিম, দেওয়াল,মেঝেসহ বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ফলে ভবনটি যেকোন মুহুর্তে নদীগর্ভে ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ দিকে নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র পাঠদান করা হচ্ছে।
জানাযায়, মনিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুরে হরিহরনদের তীরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ফাজিল মাদ্রাসাটি। সেই থেকে দ্বীতল একটি ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছিল। তবে দিন দিন শিক্ষার্থী বৃদ্ধির কারনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ২০১২ সালে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের একতল ভবন নির্মান করা হয়। পরবর্তিতে ২০২২ সালে ভবন সম্প্রসারন করে দুই ও তিনতলা নির্মান করা হয়। এ ভবনের প্রথম তলায় প্রশাসনিক দপ্তর এবং দুই ও তিন তলায় শ্রেণিকক্ষ সমুহে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছিল। এ ভবনের পিছনে হরিহর নদ প্রবাহিত। গত জানুয়ারি মাসে নদটি পুন:খনন করা হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো: শহিদুল্লাহ জানান, নদের পাড়টি ভেঙ্গে মাদ্রাসা ভবনের পিছনের বেইজ থেকে মাটি সরে গেছে। ভবনটি ইতিমধ্যে নদের দিকে হেলে পড়েছে। তার ওপর ভবনের মেঝে, দেওয়াল,বিম ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। সহকারি কমিশনার(ভূমি) মাহির দায়ান আমিন মঙ্গলবার পরিদর্শন শেষে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ মাদ্রাসা ভবন সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাদিউজ্জামান খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বুধবার সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, মাদ্রাসা ভবনের পিছনে নদের পাড়টি স্লোপ না করে খাড়া করে নির্মান করায় পানির চাপে সেটি ভেঙ্গে গিয়ে ভবনের বেইজের মাটি সরে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি অধিক ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা করা হয়েছে। তিনি জানান, জরুরী ভিত্তিতে প্যালাসাইটিং করে পাড়টি পুন:নির্মান করতে হবে। আর এ জন্য বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অদিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করা হয়েছে। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি সহকারি অধ্যাপক মুহিবুল্লাহ মনু জানান, নিরাপত্তার কথা ভেবে এ ভবন থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে অন্যত্র পাঠদান করা হচ্ছে। এ বাপারে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীকে একাধীকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, এ মুহুর্তে প্যালাসাইটিং করে ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ পুন: নির্মান করতে হবে।