মোঃ শাহ্ জালাল।। যশোরের মনিরামপুরে স্কুলপড়ুয়া নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানা এনামুল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের সরনপুরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত এনামুল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামের আব্দুর রহিম সরদারের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন মনিরামপুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ মামলা করেন। পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে হোসাইন নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নিহত এনামুল হোসেন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের সরনপুর বাজারের পাশে খালের ওপারে ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসাতপুর গ্রামে এনামুল হোসেনের বাড়ি। নানা বাড়িতে থেকে তাঁর এক নাতনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী মফিজুর রহমানের ছেলে রাব্বি হোসেন প্রায়ই তাঁদের নাতনিকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি ভুক্তভোগী মেয়েটি তাঁর নানাসহ পরিবারকে জানায়। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সম্প্রতি ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রাব্বি তাঁর নানা এনামুলকে হত্যার হুমকি দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাত ৯টার দিকে এনামুল হোসেন পার্শ্ববর্তী মনিরামপুরের সরনপুর বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে সরনপুরের বাঁশতলা মোড়ে পৌঁছালে রাব্বির নেতৃত্বে তাঁর বন্ধু হোসাইনসহ ১০-১১ জন যুবক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে এনামুল হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধরের পর উপর্যুপরি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারের পর প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা এনামুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে খবর পেয়ে ওই রাতেই মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এমদাদুল হক, ওসি আবু সাঈদসহ ডিবি পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে হোসাইনসহ পাঁচজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার সকালে নিহত এনামুলের স্ত্রী রেশমা খাতুন বাদী হয়ে রাব্বি, হোসাইনসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখসহ একটি হত্যা মামলা করেন।
মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ মামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে হোসাইনের সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে বাকি চারজন নিরাপরাধ হওয়ায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাব্বিকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি।